আমি ভেবেছিলাম নরওয়েজিয়ান পুরুষরা বিশ্বের সেরা পুরুষ, কিন্তু এটি সত্য নয়! আমার স্বামীর সাথে আমার পরিচয় হওয়ার আগে আমি ব্যাংককের একটি কারখানায় কাজ করতাম এবং সে পাতায়ায় থাকত। ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমাদের পরিচয় এবং শেষ পর্যন্ত আমরা দম্পতিতে পরিণত হয়েছিলাম।
কিছুদিন পর আমরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেই। আমি একটি দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছিলাম, তাই একজন বিদেশীকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করার কারণ ছিল যাতে সে আমার পরিবারের দেখাশোনা করে।
আমরা নরওয়েতে চলে যাই এবং আমি নরওয়েজিয়ান শেখার জন্য স্কুলে যেতে শুরু করি। এটা একটা কঠিন সময় ছিল। আমার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং আমার স্বামীকে আমায় স্কুলে নিয়ে যেতে হত, আমার জন্য অপেক্ষা করতে হত এবং আমাকে নিয়ে বাসায় ফিরতে হত। যেতে এক ঘণ্টা আর আসতে এক ঘণ্টা সময় লাগত। কিছুদিন পরে আমরা স্কুলের আরও কাছাকাছি চলে গেলাম, কিন্তু সে এখনও আমাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর দিয়েছিল। সে চাইত না আমি একা হাঁটি।
নরওয়েতে আসার পর থেকে আমার কাছে খুব বেশি টাকা ছিল না। এক সময় আমার স্বামী আমাকে দুপুরের খাবারের জন্য টাকা দিত, কিন্তু যেহেতু আমার কাছে খুব একটা টাকা ছিল না, তাই আমি দুপুরের খাবারের টাকা রেখে দিতাম। আমার স্কুলের বন্ধুরা আমাকে চাকরি পেতে সাহায্য করতে চায়, কিন্তু আমার স্বামী রাজি হয়না। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ আমার জন্য উপযুক্ত বলে সে মনে করে না।
বরং আমার জন্য সে অন্য আরেকটি কাজ দিয়েছিল – একটি গ্যারেজ তৈরি করা। সে ছিল বস আর আমি সবকিছু করেছি। সে অসুস্থ থাকায় খুব বেশি কিছু করতে পারত না। গ্যারেজ তৈরী করে সে যে অর্থ উপার্জন করেছিল, তার কিছুই সে আমাকে দেয়নি।
একদিন সে বলেছিল যে, সে যখন বাড়িতে একা ছিল তখন সে বিরক্ত হয়েছিল, তাই সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আমাদের একটি কুকুর পালা উচিত। আমি কুকুর চাইনি কারণ আমি স্কুল শেষে ক্লান্ত থাকতাম এবং আমার বাড়ির কাজ থাকত। সে বলেছিল যে, সে প্রতিদিন কুকুরটিকে হাঁটাবে, তবে শেষ পর্যন্ত আমাকে ঐ কুকুর আর আমার বৃদ্ধ স্বামী উভয়ের যত্ন নিতে হয়েছিল।
জানি না ভবিষ্যৎ কী নিয়ে আসবে। আমার পরিকল্পনা অন্য স্কুলে যাওয়ার, কিন্তু আমার স্বামী চায় না যে আমি তা করি। সে আমার জন্য এই কাজটি কঠিন করতে আরও দূরে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। আমি প্রতিবাদ করতে চাই, কিন্তু কীভাবে তা জানি না। স্বামী হিসেবে বৃদ্ধ কাউকে নিয়ে বিদেশে বসবাস করা ততটা সহজ নয় যতটা ভেবেছিলাম।